সালাম মুর্শেদীকে গুলশানের সেই বাড়ি ছাড়তে হবে, সরকারী সম্পত্তি ঘোষণা
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার অভিজাত গুলশান-২ এলাকার বহুল আলোচিত একটি বাড়িকে সরকারের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীকে।
রাজধানীর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিলেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী। প্রায় দুই দশক ধরে মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ঘিরে চলমান বিতর্কের পর আদালত এ রায় দেন।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে বলেন, গুলশানের সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল এবং আইনগতভাবে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে সম্পত্তি হস্তান্তরের সব প্রক্রিয়া বৈধ নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, স্বাধীনতার পর এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা হলেও তা আইনগত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। ফলে সম্পত্তিটি এখনো সরকারের মালিকানাধীন বলেই গণ্য হবে।
মামলার নথি ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে দলিল, নামজারি ও হস্তান্তরের মাধ্যমে সম্পত্তিটির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়। এসব প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক একটি রিট করেন। পরে হাইকোর্ট নথিপত্র তলব করে এবং বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয়। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে মালিকানা হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে অসংগতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠে আসে।
রায়ে আদালত আরও বলেন, সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকায় যথাযথ আদালতের মাধ্যমে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর মালিকানা পরিবর্তন করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির মাধ্যমে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালত দুদকের চলমান তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, জালিয়াতি বা অনিয়মে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, সালাম মুর্শেদীর পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি ১৯৯৭ সালে রাজউকের অনুমতি নিয়ে সম্পত্তিটি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
রায়ের ফলে গুলশানের এ বহুল আলোচিত সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। পাশাপাশি মালিকানা পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রম এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।













